Friday, January 12, 2018

উডেন ফ্লোরের মেঝে অন্দরসাজ

By Ripon Abu Hasnat   Posted at  2:57 AM   ফার্নিচারের কাঠ No comments


বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের বাংলাদেশেও অনেক সুন্দর সুন্দর ইন্টেরিয়র ডিজাইনের কাজ হয়ে থাকে। অফিস, বাসাবাড়ি, কটেজ, রেস্টুরেন্ট কিংবা শোরুমে চমৎকার উডেন ফ্লোরের (wooden floor) কাজ হয়ে থাকে। মেঝের সাজে উডেন ফ্লোর নতুন বিষয় না হলেও এর টেক্সচার ও ডিজাইনে যোগ হয়েছে অসংখ্য নতুনত্ব। দৃষ্টিনন্দন এসব মেঝে অন্দরসাজকে সহজেই করে তুলতে পারে আকর্ষণীয়।


উডেন ফ্লোর কী
উডেন ফ্লোর হচ্ছে কাঠের তৈরি এক প্রকার ফ্লোর ফিনিশ ম্যাটেরিয়ালস। সাধারণত টাইলসের বিকল্প হিসেবে ফ্লোরে ব্যবহার করা হয়। উডেন ফ্লোর দেখতে সুন্দর, ন্যাচারাল ও টেকসই। আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে অনেকেই উডেন ফ্লোর পছন্দ করে থাকেন।


প্রকারভেদ
প্রধানত উডেন ফ্লোর দুই প্রকার। যথা- আর্টিফিসিয়াল উডেন ফ্লোর ও ন্যাচারাল উডেন ফ্লোর। এমডিএফ বোর্ডের ওপর লেমিনেট করে উডেন ফ্লোর বাজারে পাওয়া যায়। দেখতে সলিড উডের মতো মনে হলেও এটি মূলত আর্টিফিসিয়াল উডেন ফ্লোর। আর্টিফিসিয়াল উডেন ফ্লোরের দাম তুলনামূলক কম। উডেন ফ্লোর বলতে মূলত সলিড উডেন ফ্লোরকেই বোঝায়। যেমন- বার্মাটেক উডেন ফ্লোর, ওক ভিনিয়ার উডেন ফ্লোর, লোহা কাঠের উডেন ফ্লোর ইত্যাদি।


সাইজ
উডেন ফ্লোর বিভিন্ন মাপের হয়ে থাকে। যেমন- দৈর্ঘ্য তিন ফুট থেকে আট ফুট, প্রস্থ তিন ইঞ্চি থেকে আট ইঞ্চি এবং পুরুত্ব আট মিলি থেকে ১৮ মিলি পর্যন্ত হয়। প্রয়োজন হলে ইচ্ছে অনুযায়ী তৈরি করা যায়। প্রতি পিস উডেন ফ্লোরে টাঙ্গ এবং গ্রুভ করা থাকে। ফিটিংয়ের সময় টাঙ্গ এবং গ্রুভ মিলিয়ে জয়েন্ট তৈরি করা হয়।


স্থায়িত্ব
কাঠের গুণাগুণের ওপর নির্ভর করে উডেন ফ্লোরের স্থায়িত্বকাল। আর্টিফিসিয়াল উডেন ফ্লোর এমডিএফ বোর্ডে লেমিনেট করা থাকে। ফলে কয়েক বছর ব্যবহার করার পর রঙ আস্তে আস্তে জ্বলে যায়। কিন্তু সলিড উডেন ফ্লোরের রঙ জ্বলে না। কাঠের মান যদি ভালো থাকে তাহলে উডেন ফ্লোরও টিকবে যুগের পর যুগ। কাঠের মূল বিষয়টা হচ্ছে সিজনিং ও ট্রিটমেন্ট। সলিড কাঠের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর মানের এবং আভিজাত্যপূর্ণ উডেন ফ্লোর হচ্ছে বার্মাটিক উডেন ফ্লোর, ওক ভিনিয়ার উডেন ফ্লোর, লোহা কাঠের উডেন ফ্লোর ইত্যাদি।


আমাদের দেশে বেশি পরিমাণ কাঠ পাওয়া যায়- আম কাঠ, মেহগনি কাঠ, শীলকড়ই ইত্যাদি। এ সব কাঠ যদি ভালোমতো সিজনিং ও ট্রিটমেন্ট করা যায় তাহলে টেকসই হয় ভালো। উডেন ফ্লোর ফিটিং করার পর শিরীষ পেপার দিয়ে ভালোভাবে ঘষে পলিশ করতে হয়। পলিশ করলে উডেন ফ্লোর দেখতে সুন্দর এবং ঝকঝক করে। সম্প্রতি আলট্রা ভায়োলেট কোটিং (UV coating) ব্যবহার করা হয়।


যেখানে পাবেন
উডেন ফ্লোর দেশের সবখানে পাওয়া যাবে না। বড় বড় শহর বিশেষ করে ঢাকা শহরের কিছু নির্দিষ্ট শোরুমে উডেন ফ্লোর পাওয়া যাবে। যেমন : বনানীতে (গালফ ইকো সিস্টেম, লিও কিং) ইন্টেরিয়র মার্কেট, পান্থপথ (ফার্নিচার মিউজিয়াম), হাতিরপুল প্রভৃতি জায়গায় পাবেন আপনার কাক্সিক্ষত উডেন ফ্লোর।


দরদাম
কথায় বলে জিনিস ভালো হলে তার দাম একটু বেশিই হয়। উডেন ফ্লোরও তাই। আর্টিফিশিয়াল উডেন ফ্লোরের দাম তুলনামূলক কম। ফিটিং চার্জসহ ১৮০ থেকে ২২০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে। কিন্তু সলিড উডেন ফ্লোরের দাম ৫০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

About the Author

Nulla sagittis convallis arcu. Sed sed nunc. Curabitur consequat. Quisque metus enim, venenatis fermentum, mollis in, porta et, nibh. Duis vulputate elit in elit. Mauris dictum libero id justo.
View all posts by: BT9

0 comments:

Back to top ↑
© 2013 ফার্নিচার জগত. WP Mythemeshop Converted by Bloggertheme9
Blogger templates. Proudly Powered by Blogger.